Skip to main content

ইন্টারনেটের সার্বজনীন অধিকার: মহামারীর শিক্ষা, সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টিভঙ্গি ও ডিজিটাল সাম্য

শিক্ষা, টেলিমেডিসিন এবং বাকস্বাধীনতার জন্য উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট কেন এক অপরিহার্য পূর্বশর্ত।

Illuminated global digital network grid connecting continents at night - access to internet as a fundamental right digital divide equality

২০২১ সালের বসন্তে যখন কোভিড-১৯ মহামারীর ভয়াবহ দ্বিতীয় ঢেউ ভারতজুড়ে আছড়ে পড়েছিল, তখন হাসপাতালগুলোর জরুরি টেলিফোন সুইচবোর্ডগুলি মানুষের কাতর আর্তনাদের চাপে ভেঙে পড়েছিল।

১. ডিজিটাল জীবনরেখা: যখন নেটওয়ার্ক সংযোগই হয়ে উঠেছিল বেঁচে থাকার একমাত্র সীমানা

নাগরিকদের সম্মিলিত অনলাইন সাহায্য কীভাবে প্রমাণ করেছিল যে ইন্টারনেট একটি অত্যাবশ্যক গণপরিষেবা

২০২১ সালের বসন্তকালে যখন কোভিড-১৯ মহামারীর মারাত্মক দ্বিতীয় ঢেউ সমগ্র ভারতজুড়ে আছড়ে পড়েছিল এবং স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে চরম সংকটের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল, তখন হাসপাতালগুলির জরুরি টেলিফোন সুইচবোর্ডগুলি হাজার হাজার অসহায় মানুষের আর্তনাদের ভারে ভেঙে পড়েছিল। কয়েকদিনের মধ্যে তরল মেডিক্যাল অক্সিজেনের উৎপাদন কেন্দ্রগুলি হিমশিম খেতে শুরু করে এবং সরকারি দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থা নজিরবিহীন চাপে অচল হয়ে পড়ে। চরম মানবিক বিপর্যয়ের সেই ভয়াল মুহূর্তে ডিজিটাল পর্দার এপার-ওপারে এক অভূতপূর্ব নাগরিক সংহতি ও সমাজসেবার জাগরণ ঘটেছিল: সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা সোশ্যাল মিডিয়া ফিড, তাৎক্ষণিক মেসেজিং গ্রুপ এবং শেয়ার করা স্প্রেডশিটগুলিকে একটি তাৎক্ষণিক জাতীয় জরুরি চিকিৎসা সহায়ক নেটওয়ার্কে রূপান্তরিত করেছিলেন।

দিল্লির কোনো অসহায় পরিবার যখন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (ICU) ভেন্টিলেটর বেডের জন্য সামাজিক মাধ্যমে হাহাকার প্রকাশ করত; কয়েক মিনিটের মধ্যে বেঙ্গালুরু বা মুম্বাইয়ে বসে থাকা কোনো স্বেচ্ছাসেবী শহরের অন্য প্রান্তের হাসপাতালে খালি শয্যার সন্ধান নিশ্চিত করতেন, পরিবারটিকে একজন অ্যাম্বুলেন্স চালকের সঙ্গে যুক্ত করে দিতেন এবং জরুরি অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যবস্থা করে দিতেন। যে সমস্ত সাধারণ মানুষের আনুষ্ঠানিক প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে বাঁচার কোনো আশাই অবশিষ্ট ছিল না, তাদের মধ্যে হাজার হাজার জীবন কেবল ডিজিটাল ডেটা প্যাকেটের তাৎক্ষণিক ও বিকেন্দ্রীভূত বিনিময়ের মাধ্যমেই রক্ষা পেয়েছিল। সেই অগ্নিপরীক্ষা জনমানসে একটি চিরন্তন সত্য প্রতিষ্ঠিত করেছিল: ইন্টারনেট সংযোগ আর কোনো বিলাসিতা বা বিনোদনের উপকরণ নয়, এটি জীবন ও মৃত্যুর মধ্যবর্তী এক পরম জীবনরেখা।

লকডাউনের কঠিন মাসগুলিতে এবং পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের পর্বে মানব সমাজের প্রতিটি প্রয়োজনীয় কার্যক্রম ডিজিটাল মাধ্যমের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছিল: প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষার অনলাইন পাঠদান, জরুরি টেলি-পরামর্শ, গৃহকোণ থেকে কাজ (Work from Home), সরকারি সামাজিক সুরক্ষার প্রত্যক্ষ আর্থিক অনুদান (DBT) এবং গণবণ্টন ব্যবস্থার খাদ্যশস্যের বায়োমেট্রিক যাচাইকরণ। কিন্তু ক্লাউড প্রযুক্তির ওপর এই আকস্মিক নির্ভরতা সমাজে বিদ্যমান শ্রেণিভেদ ও পরিকাঠামোগত বৈষম্যকে নগ্নভাবে উন্মোচিত করেছিল। যাদের উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড এবং আধুনিক ডিজিটাল ডিভাইস ছিল, তারা শিক্ষা ও জীবিকা রক্ষা করতে পেরেছিলেন; আর যারা বঞ্চিত ছিলেন, তারা আধুনিক পৃথিবী থেকে এক নিমেষে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন। ইন্টারনেটকে একটি অলঙ্ঘনীয় সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি তাই কোনো প্রযুক্তিগত বিলাসিতা নয়, বরং একবিংশ শতাব্দীর প্রধান নাগরিক অধিকারের সংগ্রাম।

মহামারীর সেই অভিজ্ঞতা অকাট্যভাবে প্রমাণ করেছে যে আজকের পৃথিবীতে ডিজিটাল সংযোগহীনতা কার্যত নাগরিক অধিকার বিলুপ্তির শামিল। ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি কেবল সামাজিক যোগাযোগ থেকে বঞ্চিত হন না, বরং জীবনদায়ী চিকিৎসা, মৌলিক শিক্ষা এবং জীবিকার সুযোগ থেকেও ছিটকে পড়েন। তাই টেলিযোগাযোগ পরিকাঠামোকে কেবল বেসরকারি কর্পোরেট মুনাফার ওপর ছেড়ে দেওয়া কোনো বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে দেখা যায় না; একে বিশুদ্ধ পানীয় জল এবং বিদ্যুতের মতোই বাধ্যতামূলক সার্বজনীন নাগরিক অধিকার হিসেবে নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব। (সম্পর্কিত বিষয়ে আরও বিস্তৃত বিশ্লেষণের জন্য আমাদের প্রবন্ধ অসম্ভব শুধু একটি মতামত: স্ব-আরোপিত সীমা ভঙ্গ করা পড়ুন।)

প্রতিফলন: একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কি নাগরিকদের জীবনের অধিকার রক্ষার দাবি করতে পারে, যদি সে সেই ডিজিটাল মাধ্যমটিই কেড়ে নেয় যার মাধ্যমে বিপদের মুহূর্তে জীবনের জন্য সাহায্য চাওয়া হয়?

২. আন্তর্জাতিক ঐক্যমত: জাতিসংঘ এবং ডিজিটাল সাংবিধানিকতার বিকাশ

ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগকে মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আন্তর্জাতিক পরিক্রমা

ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগকে একটি মৌলিক মানবাধিকারের মর্যাদায় উন্নীত করার আন্তর্জাতিক আইনি নীতি সুদীর্ঘ কূটনৈতিক ও বিচার বিভাগীয় আলোচনার মধ্য দিয়ে রূপ পেয়েছে। ২০১৬ সালের জুন মাসে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ (UNHRC) একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব গ্রহণ করে, যেখানে রাজনৈতিক ভিন্নমত এবং নাগরিক প্রতিবাদ দমনের লক্ষ্যে রাষ্ট্র কর্তৃক ইন্টারনেট বন্ধ করার অপচেষ্টাকে কঠোর ভাষায় নিন্দা করা হয়। এই যুগান্তকারী প্রস্তাবে সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয় যে, বাস্তব জগতে মানুষ যে মৌলিক মানবাধিকারগুলি ভোগ করে, ডিজিটাল জগতেও সেই অধিকারগুলি ঠিক ততটাই সুরক্ষিত রাখতে হবে—বিশেষ করে মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্রের ১৯ অনুচ্ছেদে বর্ণিত মতামত ও ভাব প্রকাশের অবাধ স্বাধীনতা।

জাতিসংঘ সুস্পষ্টভাবে অনুধাবন করেছিল যে সমকালীন জ্ঞানভিত্তিক বিশ্ব অর্থনীতিতে ইন্টারনেটই হলো সেই প্রধান মাধ্যম যার সাহায্যে সাধারণ নাগরিকরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেন, বৈজ্ঞানিক তথ্য আহরণ করেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করেন এবং বৈধ জীবিকা নির্বাহ করেন। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংক্রান্ত জাতিসংঘের বিশেষ দূতরা একাধিক প্রতিবেদনে সতর্ক করেছেন যে ব্রডব্যান্ড সংযোগকে কেবল উচ্চবিত্তের ব্যক্তিগত বিলাসিতা হিসেবে গণ্য করা সমতা এবং বৈষম্যহীনতার মূল ভিত্তিকে বিনষ্ট করে। এর ফলে প্রতিটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের ওপর একটি ইতিবাচক দায়ভার বর্তায়: তাদের কেবল নির্বিচার সেন্সরশিপ বা নেটওয়ার্ক ব্ল্যাকআউট থেকে বিরত থাকলেই চলবে না, বরং সমাজের প্রান্তিক মানুষদের জন্য সুলভ মূল্যে পরিকাঠামো পৌঁছে দিতে রাষ্ট্রীয় তহবিল বিনিয়োগ করতে হবে।

বিশ্বের বহু প্রগতিশীল দেশ এই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিগুলিকে দ্রুত তাদের জাতীয় আইনে রূপান্তর করেছে। এস্তোনিয়া ২০০০ সালে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে প্রতিটি নাগরিকের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহারকে আইনগত মৌলিক অধিকার হিসেবে ঘোষণা করে এবং প্রতিটি বিদ্যালয় ও জনবহুল স্থানে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই স্থাপন করে। এরপর ২০১০ সালে ফিনল্যান্ড আইন প্রণয়ন করে প্রতিটি নাগরিকের জন্য ন্যূনতম এক মেগাবিট গতির ব্রডব্যান্ড প্রাপ্তি নিশ্চিত করে এবং প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে এই গতিসীমা ক্রমাগত বৃদ্ধি করেছে। এই রাষ্ট্রগুলি স্পষ্ট বুঝেছিল যে আধুনিক জ্ঞানসমাজে ডিজিটাল নিরক্ষরতা আসলে ঐতিহাসিকভাবে চলে আসা প্রাতিষ্ঠানিক অশিক্ষারই নামান্তর।

ইন্টারনেট সংযোগকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার অর্থ হলো রাষ্ট্রকে জনকল্যাণমুখী অভিভাবকের ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। টেলিকম পরিকাঠামোর বিকাশকে কেবল মুনাফাকেন্দ্রীক বেসরকারি সংস্থার ওপর ছেড়ে দিলে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল চিরকাল অবহেলিত থেকে যাবে। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হলো প্রতিটি প্রত্যন্ত প্রান্তে অপটিক্যাল ফাইবার লাইন পৌঁছে দেওয়া, স্বল্প আয়ের পরিবারগুলিকে আর্থিক ভর্তুকি দেওয়া এবং ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে কোনো শিশু যেন আধুনিক জ্ঞান থেকে বঞ্চিত না হয় তা নিশ্চিত করা। (প্রামাণ্য গবেষণা ও তথ্যাবলির জন্য United Nations High Commissioner for Human Rights (OHCHR) পর্যালোচনা করুন।)

প্রতিফলন: যে গণতান্ত্রিক দেশগুলি বিশ্বমঞ্চে বাকস্বাধীনতার পক্ষে বড় বড় বক্তৃতা দেয়, তারা কীভাবে নিজেদের দেশে রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনের জন্য ইন্টারনেটের সুইচ বন্ধ করে দেওয়াকে সমর্থন করতে পারে?

৩. ভারতীয় বিচারব্যবস্থার মাইলফলক: অনুরাধা ভাসিন মামলা ও সাংবিধানিক মাধ্যম

ইন্টারনেটের মাধ্যমে মৌলিক অধিকারের সুরক্ষায় সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের সাংবিধানিক বিশ্লেষণ

ডিজিটাল মানবাধিকারের প্রশ্নে ভারতের সাংবিধানিক বিচারব্যবস্থা দুটি ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে এক অভাবনীয় উচ্চতায় পৌঁছেছে। প্রথম তাৎপর্যপূর্ণ বিচারিক সাফল্য এসেছিল ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে, যখন কেরালা হাইকোর্ট ফাহিমা শিরিন বনাম কেরালা রাজ্য মামলায় এক দূরদর্শী রায় প্রদান করে। বাধ্যতামূলক পড়ার সময়ে স্মার্টফোন জমা দিতে অস্বীকার করায় কলেজ হোস্টেল থেকে বহিষ্কৃত এক ছাত্রীর আবেদনের ভিত্তিতে আদালত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছিল যে, ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ ভারতীয় সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে বর্ণিত শিক্ষার অধিকার এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

এর ঠিক চার মাস পর, ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে, ভারতের সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির বেঞ্চ অনুরাধা ভাসিন বনাম ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া মামলায় ঐতিহাসিক রায় প্রদান করে ভারতের প্রশাসনিক আইনকে নতুন রূপ দেয়। ২০১৯ সালের আগস্টে জম্মু ও কাশ্মীরের সাংবিধানিক পুনর্গঠনের পর কেন্দ্রীয় সরকার গোটা অঞ্চলে মোবাইল ইন্টারনেট, ব্রডব্যান্ড এবং ল্যান্ডলাইন টেলিফোন সংযোগের ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল, যার ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ দীর্ঘ কয়েকমাস বাইরের বিশ্ব থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন। কাশ্মীর টাইমসের কার্যনির্বাহী সম্পাদক অনুরাধা ভাসিন এই স্বেচ্ছাচারী নিষেধাজ্ঞাকে শীর্ষ আদালতে চ্যালেঞ্জ করে প্রমাণ করেছিলেন যে সম্পূর্ণ ব্ল্যাকআউট সংবাদপত্রের স্বাধীনতা স্তব্ধ করেছে, চিকিৎসা ব্যবস্থাকে বিকল করেছে এবং স্থানীয় বাণিজ্য ধ্বংস করেছে।

নব্বই পৃষ্ঠার সুদীর্ঘ সাংবিধানিক রায়ে সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক মতবাদ প্রতিষ্ঠা করে: আদালত ঘোষণা করে যে ইন্টারনেটের মাধ্যমে মত ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা এবং যে কোনো পেশা, ব্যবসা বা বাণিজ্য পরিচালনা করার অধিকার সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৯(১)(ক) এবং ১৯(১)(ছ)-এর অধীনে সুরক্ষিত মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানায় যে অনির্দিষ্টকালের জন্য নির্বিচারে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক। সরকার যদি কোনো অঞ্চলে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, তবে তাকে আইনসম্মত প্রক্রিয়া, চরম আবশ্যিকতা এবং কঠোর বিচারিক আনুপাতিকতা পরীক্ষার (proportionality test) সম্মুখীন হতে হবে।

ভাসিন রায়ের প্রধান দার্শনিক গুরুত্ব হলো এই যে, আদালত মেনে নিয়েছে একবিংশ শতাব্দীতে ইন্টারনেট কেবল একটি প্রযুক্তিগত অনুষঙ্গ নয়, বরং এটি সেই অবিচ্ছেদ্য বাহন যার মাধ্যমে অন্যান্য মৌলিক অধিকার বাস্তবে কার্যকর হয়। ইন্টারনেট বন্ধ করা মানে আধুনিক যুগে সংবাদপত্রের মুদ্রণযন্ত্র বাজেয়াপ্ত করা এবং গণতান্ত্রিক সমাবেশের ময়দানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার সামিল। এই ঐতিহাসিক রায় পুলিশ ও আমলাতন্ত্রের খেয়ালখুশিমতো ইন্টারনেট বন্ধের অভ্যাসে এক শক্তিশালী সাংবিধানিক রাশ টেনে ধরেছে। (সম্পর্কিত বিষয়ে আরও বিস্তৃত বিশ্লেষণের জন্য আমাদের প্রবন্ধ উদ্বাস্তু সংকট বিশ্বের নৈতিক ব্যর্থতা দেখায় পড়ুন।)

প্রতিফলন: ইন্টারনেটকে অনুচ্ছেদ ১৯-এর মৌলিক অধিকার প্রয়োগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের স্বীকৃতি আধুনিক সাংবিধানিক আইনে কেন এত বড় বিপ্লব হিসেবে গণ্য হয়?

৪. নির্মম বাস্তব: ডিজিটাল বৈষম্যের গভীর খাদ এবং শিক্ষার অধিকারের সংকট

ব্রডব্যান্ড পরিকাঠামোর অপ্রতুলতা কীভাবে লক্ষ লক্ষ গ্রামীণ ও দরিদ্র পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছিল

সাংবিধানিক আদালতগুলির রায় আদালতের নথিপত্রে ডিজিটাল স্বাধীনতার উজ্জ্বল রূপ তুলে ধরলেও, উন্নয়নশীল দেশগুলির মাটির বাস্তব এখনও ডিজিটাল বৈষম্যের ভয়াবহ খাদের মধ্যে আটকে রয়েছে। মহামারীর দিনগুলিতে যখন সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের স্বাভাবিক দরজা বন্ধ করে রাতারাতি জুম বা ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে পাঠদান শুরু করেছিল, তখন ডিজিটাল অগ্রগতির মিথ্যা দাবি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছিল। ইউনিসেফ এবং প্রথম সংস্থার অ্যানুয়াল স্ট্যাটাস অব এডুকেশন রিপোর্ট (ASER)-এর পরিসংখ্যানে ধরা পড়েছিল যে ভারতের গ্রামীণ অঞ্চলে মাত্র পঁচিশ শতাংশেরও কম পরিবারের কাছে নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ বা কার্যকর কম্পিউটার ছিল।

গোটা দেশের প্রত্যন্ত প্রান্ত থেকে বুকভাঙা সব ছবি ভেসে এসেছিল: পাহাড়ি ঢালে একটুকরো মোবাইল নেটওয়ার্কের আশায় মাইলের পর মাইল হেঁটে গিয়ে উঁচু গাছের চূড়ায় বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়াশোনা করতে বাধ্য হওয়া শিশুরা; বস্তির ঘিঞ্জি ঘরে একটিমাত্র ভাঙা স্ক্রিনের স্মার্টফোন ঘিরে লড়াইরত ভাইবোনেরা, যার প্রি-পেইড ডেটা প্যাক শিক্ষকের কথা চলাকালীনই ফুরিয়ে যেত; এবং লক্ষ লক্ষ গ্রামীণ কন্যাশিশু, যাদের চিরতরে স্কুল ছাড়তে হয়েছিল কারণ দরিদ্র পরিবারগুলি সীমিত ডেটা কেবল পুত্রসন্তানের শিক্ষার জন্য বাঁচিয়ে রেখেছিল। এই পিছিয়ে পড়া শিশুদের জন্য ডিজিটাল সংযোগহীনতা কোনো সাময়িক ব্যঘাত ছিল না, এটি তাদের জীবনকে ঠেলে দিয়েছিল অকাল শিশুশ্রম এবং বাল্যবিবাহের অন্ধকারে।

এই বৈষম্য কেবল স্কুলের সিলেবাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি রাষ্ট্রের কল্যাণমূলক পরিষেবা এবং সামাজিক সুরক্ষাকেও সরাসরি প্রভাবিত করে। বর্তমান ভারতে গণবণ্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে খাদ্যশস্য পাওয়ার জন্য আঙুলের ছাপের বায়োমেট্রিক অনলাইন যাচাই বাধ্যতামূলক; ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অনলাইন পোর্টালে নথিভুক্ত হতে হয়; এবং কৃষকদের ফসলের ন্যায্যমূল্য জানতে ই-নাম ডিজিটাল মণ্ডির ওপর নির্ভর করতে হয়। কোনো প্রত্যন্ত গ্রামের মোবাইল টাওয়ার যদি কয়েকদিনের জন্য বিকল হয়ে পড়ে, তবে সেই এলাকার সবচেয়ে অসহায় নাগরিকের কাছে জনকল্যাণকামী রাষ্ট্রের অস্তিত্বই বিলুপ্ত হয়ে যায়।

ডিজিটাল বৈষম্য আসলে সমাজে বিরাজমান ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক বৈষম্যকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে তোলে। প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং নেটওয়ার্ক সংযোগহীন তরুণ-তরুণীরা আধুনিক মেধাভিত্তিক চাকরির বাজার থেকে শুরুতেই ছিটকে পড়ে। ফলে সার্বজনীন ব্রডব্যান্ড নিশ্চিত করা কেবল ডিজিটাল ইন্ডিয়ার শ্লোগান নয়, এটি সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সমতার সাংবিধানিক অঙ্গীকার পূরণের মূল পথ। (প্রামাণ্য গবেষণা ও তথ্যাবলির জন্য Internet Society — Global Internet Report পর্যালোচনা করুন।)

প্রতিফলন: যখন খাদ্য অধিকার এবং বেঁচে থাকার ন্যূনতম সামাজিক সুবিধা পেতে ডিজিটাল নেটওয়ার্ক বাধ্যতামূলক করা হয়, তখন সংযোগের ব্যর্থতা কি জীবনের অধিকার হরণের সামিল নয়?

৫. অন্ধকারের সুইচ: ইন্টারনেট শাটডাউনের চরম অর্থনৈতিক, সামাজিক ও মানবিক মূল্য

গণতান্ত্রিক সমাজে রাষ্ট্রীয় নির্দেশে নেটওয়ার্ক ব্ল্যাকআউটের বিধ্বংসী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিশ্লেষণ

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় জেলা প্রশাসন ও পুলিশের তুচ্ছ অজুহাতে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার একনায়কতান্ত্রিক অভ্যাস ভারতীয় গণতন্ত্রের গায়ে এক গভীর ক্ষত হয়ে টিকে রয়েছে। ডিজিটাল অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা অ্যাক্সেস নাও (Access Now)-এর বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি নির্দেশে ইন্টারনেট বন্ধের সংখ্যায় ভারত বহু বছর ধরে বিশ্বে প্রথম সারিতে অবস্থান করছে। সামান্য প্রতিবাদ আন্দোলন, স্থানীয় নির্বাচন এবং এমনকি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার নকল ঠেকানোর মতো অবিশ্বাস্য কারণেও ঘনঘন মোবাইল ডেটা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।

এই নির্বিচার ইন্টারনেট বন্ধের অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি ভয়াবহ। যে দেশে ডিজিটাল পেমেন্ট ক্রান্তি (UPI) প্রত্যন্ত এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে—যেখানে রাস্তার চায়ের দোকানদার, অটোচালক এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সম্পূর্ণভাবে ডিজিটাল কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেন করেন—সেখানে মোবাইল ডেটা বন্ধ হওয়ার সাথে সাথে অসংগঠিত অর্থনীতি সম্পূর্ণ পঙ্গু হয়ে পড়ে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর রিসার্চ অন ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক রিলেশনস (ICRIER)-এর অর্থনৈতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে উপর্যুপরি ইন্টারনেট বন্ধের ফলে দেশের হাজার হাজার কোটি টাকার প্রত্যক্ষ ক্ষতি হয়েছে, সরবরাহের শৃঙ্খল ভেঙেছে এবং বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট হয়েছে।

অর্থনৈতিক ক্ষতির চেয়েও মারাত্মক হলো জনস্বাস্থ্য ও সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তার ক্ষতি। নেটওয়ার্ক বন্ধ থাকলে অ্যাম্বুলেন্সগুলি ট্রাফিকের জটলা এড়াতে জিপিএস নেভিগেশন ব্যবহার করতে পারে না; হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ক্লাউডে সংরক্ষিত রোগীর জীবনদায়ী চিকিৎসার ইতিহাস দেখতে পায় না; এবং আইন-শৃঙ্খলার অবনতির সময় আতঙ্কিত পরিবারগুলি স্বজনদের বেঁচে থাকার খবর পেতে পারে না। শান্তি রক্ষার বদলে ইন্টারনেট বন্ধ আসলে এমন এক ভয়ংকর তথ্যশূন্যতা তৈরি করে যেখানে ভিত্তিহীন গুজব ও সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।

ইন্টারনেট সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করা হলো এক ধরণের যৌথ শাস্তি (collective punishment), যা প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের মূল নীতির বিরোধী। কিছু অপরাধীকে ধরার অজুহাতে লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষের রুটি-রুজি এবং বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া প্রশাসনিক অপদার্থতা এবং বিচারিক আনুপাতিকতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। (সম্পর্কিত বিষয়ে আরও বিস্তৃত বিশ্লেষণের জন্য আমাদের প্রবন্ধ ভারতে 21 শতকের চাহিদা মেটাতে একটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পড়ুন।)

প্রতিফলন: একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কি সামান্য পরীক্ষার নকল রোখা বা প্রতিবাদের কণ্ঠ স্তব্ধ করার জন্য কোটি কোটি মানুষের চিকিৎসা ও রুটি-রুজির প্রধান মাধ্যম কেটে দেওয়াকে ন্যায্য বলতে পারে?

৬. সার্বভৌম সাধারণ সম্পদ: নেট নিরপেক্ষতা এবং ডিজিটাল স্বাধীনতার রূপরেখা

ভবিষ্যতের প্রজন্মের জন্য মুক্ত ও নিরপেক্ষ ইন্টারনেটকে সার্বজনীন সাধারণ সম্পদ হিসেবে রক্ষার অঙ্গীকার

ইন্টারনেটকে একটি প্রকৃত মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য কেবল মাটির তলায় অপটিক্যাল ফাইবার তার বিছানোই যথেষ্ট নয়, এই পরিকাঠামোর মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং নিরপেক্ষতা রক্ষা করাও সমভাবে অপরিহার্য। নেট নিরপেক্ষতার (Net Neutrality) মূল কথা হলো ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী টেলিকম সংস্থাগুলি সমস্ত ডেটা ট্রাফিকের সাথে সমান আচরণ করবে—কোনো নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্ম বা সাইটকে অর্থের বিনিময়ে বাড়তি সুবিধা দেওয়া বা গতি কমিয়ে দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হবে।

কয়েক বছর আগে বহুজাতিক প্রযুক্তি কর্পোরেশনগুলি ‘জিরো-রেটিং’ মডেলের (যেমন ফেসবুকের ফ্রি বেসিকস) মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে তথাকথিত বিনামূল্যে ইন্টারনেট দেওয়ার ফাঁদ পেতেছিল, যা বাস্তবে ছিল কোম্পানি নির্ধারিত কয়েকটি সাইটের এক ডিজিটাল কারাগার। ভারতের লক্ষ লক্ষ সচেতন নাগরিক, তরুণ প্রকৌশলী এবং প্রযুক্তিবিদরা এর বিরুদ্ধে এক অভূতপূর্ব জাতীয় আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন, যার ফলে টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অব ইন্ডিয়া (TRAI) ২০১৬ সালে বৈষম্যমূলক ডেটা শুল্কের ওপর ঐতিহাসিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। জনতা স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করেছিল যে বহুজাতিকদের কৃপায় পরিচালিত দুই স্তরের ইন্টারনেট কোনো ক্ষমতায়ন নয়, এটি ডিজিটাল সামন্ততন্ত্র।

গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের দাবি হলো দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড সংযোগকে পানীয় জল, বিদ্যুৎ এবং রাজপথের মতোই এক অপরিহার্য জনসেবা হিসেবে গণ্য করা। ভারতনেট (BharatNet) প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের সমস্ত আড়াই লক্ষ গ্রাম পঞ্চায়েতকে উচ্চগতির ফাইবার নেটওয়ার্কে যুক্ত করার কাজকে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও গুণের সাথে দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। যখন প্রতিটি গ্রামীণ বিদ্যালয়, প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং পঞ্চায়েত ভবন বিশ্বের অবাধ জ্ঞানভাণ্ডারের সাথে যুক্ত হবে, তখন আমরা কেবল যন্ত্র জুড়ব না, আমরা কোটি কোটি মানুষের সুপ্ত মেধা ও প্রতিভাকে ডানা মেলতে সাহায্য করব।

মুক্ত ইন্টারনেট হলো মানব সভ্যতার সবচেয়ে মূল্যবান সমবেত বৌদ্ধিক ঐতিহ্য। একে কর্তৃত্ববাদী সরকারের সেন্সরশিপ এবং দৈত্যাকার কর্পোরেট একচেটিয়া মুনাফাবাজির হাত থেকে রক্ষা করা আমাদের প্রজন্মের সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক কর্তব্য, যাতে আমাদের উত্তরসূরিরা এক স্বাধীন, সমানাধিকারযুক্ত ও মানবিক ডিজিটাল বিশ্বে বাঁচতে পারে। (প্রামাণ্য গবেষণা ও তথ্যাবলির জন্য International Telecommunication Union (ITU) পর্যালোচনা করুন।)

প্রতিফলন: আমরা কি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাতে একটি উন্মুক্ত এবং গণতান্ত্রিক ডিজিটাল পৃথিবী তুলে দেব, নাকি কর্পোরেট নজরদারি ও সেন্সরশিপে বন্দি এক প্রযুক্তিগত কারাগার?

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

জাতিসংঘ কেন ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগকে মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছে?

জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ সুস্পষ্ট করেছে যে ডিজিটাল যুগে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শিক্ষা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও অর্থনৈতিক সুযোগ পাওয়ার জন্য ইন্টারনেট একটি অপরিহার্য পূর্বশর্ত।

অনুরাধা ভাসিন বনাম ভারত সরকার (২০২০) মামলার সুপ্রিম কোর্টের রায়ের তাৎপর্য কী?

সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে ইন্টারনেটের মাধ্যমে মতপ্রকাশ ও জীবিকা অর্জনের অধিকার সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৯-এর অধীনে মৌলিক অধিকার এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য ইন্টারনেট বন্ধ রাখা অসাংবিধানিক।

ডিজিটাল বৈষম্য কীভাবে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিভাজনকে আরও গভীর করে?

উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড না থাকায় দরিদ্র ছাত্রছাত্রীরা অনলাইন শিক্ষা থেকে ছিটকে পড়ে এবং গ্রামীণ মানুষ টেলিমেডিসিন, ব্যাংকিং ও সরকারি খাদ্য সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়, যা দারিদ্র্যের চক্রকে জিইয়ে রাখে।

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকার কোন আইনি শর্তের অধীনে ইন্টারনেট বন্ধ করতে পারে?

যে কোনো নিষেধাজ্ঞার সুস্পষ্ট আইনি ভিত্তি থাকতে হবে, তা সম্পূর্ণ অস্থায়ী হতে হবে, চরম জনস্বার্থের প্রয়োজনে হতে হবে এবং বিচারিক আনুপাতিকতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

Discussion